HomeGalleryAbout Us

জান্নাতের অন্তরায়ঃ অহংকার/দাম্ভিকতা (প্রথম পর্ব)

QuranerAlo

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা) এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের উপর। মহাগ্রন্থ কুর’আন আল কারীমে আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।”[সূরা লোকমান; ৩১:১৮]

“অহংকার পতনের মূল”-এই প্রবাদটি মোটামুটি আমাদের সকলের জানা। কিন্তু আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন এবং তাঁর রাসূল (সা) এ ব্যাপারে কি বলেছেন তা আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। চলুন, জানার চেষ্টা করি কুর’আন ও হাদীস কি বলে এ ব্যাপারে!

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা) বলেছেনঃ

“যার অন্তরে অণু পরিমান অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলঃ যদি কেউ সুন্দর জামা আর সুন্দর জুতা পরিধান করতে ভালবাসে? তখন নবী করীম (সা) বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার মানে হল সত্য প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা।” [সহীহ্‌ মুসলিম; কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়ঃ ১, হাদীস নম্বরঃ ১৬৪]

অহংকারীর ঠিকানা হল জাহান্নাম। আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ

“সুতরাং,তোমরা দ্বারগুলি দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ কর, সেখানে স্থায়ী হবার জন্যে; দেখ অহংকারীদের আবাসস্থল কত নিকৃষ্ট।”[সূরা নাহল; ১৬:২৯]

তাছাড়া উপরে বর্ণিত হাদীস থেকেও এটা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, যার অন্তরে অণু পরিমান অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। আর এতেই প্রমানিত হয় যে, অহংকার মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায় এবং জান্নাতে যাওয়া পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া রাসূল (সা) এর এই হাদীসে অহংকার বলতে কি বুঝায় তার পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা খুব সুন্দরভাবে দেওয়া আছে। এই হাদীস অনুযায়ী অহংকার দুই ধরনেরঃ

১. সত্য প্রত্যাখ্যান করাঃ সত্য প্রত্যাখ্যান করা বা তা গ্রহন না করাই হল অহংকার বা দাম্ভিকতা। তাই মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন কুর’আন আল কারীমে প্রিয় নবী (সা) এর মাধ্যমে যে সত্য আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন তা বিনয়ের সাথে গ্রহন করা এবং মেনে চলা আমাদের জন্য ফরজ। আর যারাই কিনা অহংবোধ আর দাম্ভিকতার কারনে আল্লাহ্‌ এবং তার রাসূল (সা) এর বাণী ও বিধানে বিশ্বাস স্থাপনে অপারগতা প্রকাশ করে এবং তা মেনে চলতে অনীহা প্রকাশ করে তারাই হল কাফির বা অবিশ্বাসী। তাদের ঠিকানা হল জাহান্নাম, যেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে। কারন, নবী-রাসূলদের মাধ্যমে তাদের কাছে যখন সুস্পষ্ট প্রমানসহ সত্য (কুর’আন ও আসমানী কিতাবসমূহ) পাঠানো হয়েছিল, তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিল; অহংবোধ ও দাম্ভিকতা তাদেরকে সত্য গ্রহন করা থেকে বিরত রেখেছিল। কুর’আন আল কারীমে আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ

“যখনতার নিকট আমার আয়াতসমূহআবৃত্তি করা হয়, তখনসে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেনসে এটা শুনতেই পায়নি, যেন তার কর্ণদুটি বধির।অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিয়ে দাও।”[সূরা লোকমান; ৩১:৭]

.

“যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল না থাকলেও আল্লাহ্‌র নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের আছে শুধু অহংকার, যা সফল হবার নয়। অতএব,আল্লাহ্‌র শরণাপন্ন হও; তিনিতো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আল-মু’মিন; ৪০:৫৬]

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ

“ভূ-পৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না। তুমিতো কখনোই পদাভরে ভূ-পৃষ্ঠকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।” [সূরা বানী ইসরাইল, ১৭:৩৭]

তবে যাদের ঔদ্ধত্য এবং অহংবোধ তাদেরকে পরিপূর্ণভাবে সত্য গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখে-অর্থাৎ যারা মতের অমিলের কারনে বা খেয়াল-খুশিমত সত্য আংশিকভাবে মেনে চলে এবং আংশিক মেনে চলা থেকে বিরত থাকে-তারা কাফির নয়। তবে তাদের দাম্ভিকতার জন্যও রয়েছে যথাপোযুক্ত শাস্তি। আর একারনেই আলেমরা এই ব্যাপারে একমত যে, যখন কেউ আল্লাহ্‌র রাসূল (সা) এর সুন্নাহ্‌ সম্পর্কে অবগত হয় তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া তার পক্ষে সমীচীন নয়; ঠিক তেমনি সমীচীন নয় তার উপরে অন্য কারোর কথা বা কাজকে প্রাধান্য দেওয়া সে যেই হোক না কেন-যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন। তাই প্রকৃত জ্ঞান অন্বেষণকারীদের কর্তব্য হল অন্য কারো কথার আগে আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূলের (সা) কথাকে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য দেওয়া; তারা কি বুঝাতে চেয়েছেন তা গভীরভাবে অনুভবের ও অনুসন্ধানের চেষ্টা করা এবং তার উপর ভিত্তি করে চিন্তাভাবনা করা, মতামত প্রদান করা ও জ্ঞান চর্চায় অগ্রসর হওয়া। কেউ এই স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম (Golden Rule) মেনে সত্য উদ্‌ঘাটনে অগ্রসর হলে তার জন্য রয়েছে কল্যাণ আর সফলতা। আর তা করতে গিয়ে কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ্‌। কেননা, তার একমাত্র উদ্দ্যেশই ছিল সত্যকে সঠিকভাবে জানার এবং তা মেনে চলার সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আর এটাই হল বিনয়ের সাথে সত্য গ্রহন করা।

Back to posts
This post has no comments - be the first one!

UNDER MAINTENANCE
Category:
Islamic TalksIslamic Talks
Technology and TipsTechnology and Tips
Home
12742© All rights reserved
By Maruf

Teya Salat